ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২
gonojog24
Bongosoft Ltd.

২৯৫ ওষুধ জাতীয় অত্যাবশ্যক তালিকাভুক্ত


গণযোগ | গণযোগ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:১১ এএম আপডেট: জুলাই ১, ২০১৯ ১১:৩৯ এএম ২৯৫ ওষুধ জাতীয় অত্যাবশ্যক তালিকাভুক্ত
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। সংগৃহীত

 

জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৫ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করতে জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই দুই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে বিক্রি করা যাবে না।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিশেষ সহকারী বলেন, ১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধ নীতির মাধ্যমে দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে এসে সব ওষুধের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়ে মাত্র ১১৭টি ওষুধে তা সীমিত করা হয়। গত প্রায় তিন দশক এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিয়ন্ত্রিত তালিকার বাইরে ওষুধের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টিতে পৌঁছেছে।

এর ফলে ওষুধের দামে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে মানুষের মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধ খাতে ব্যয় হচ্ছে, যার বড় অংশই ব্যক্তিগত পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিমা বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মতো কোনো সুরক্ষা কাঠামো নেই। এই বাস্তবতায় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে জানান তিনি।

সায়েদুর রহমান জানান, আজ একটি অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ২৯৫টি ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবারের তালিকায় আগের তালিকার তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ বেশি। এসব ওষুধ সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে এবং এই দামের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মূল্য নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুসরণ করা হবে, যেখানে কাঁচামাল (এপিআই ও এক্সিপিয়েন্ট), উৎপাদন ব্যয় এবং প্রচলিত মুনাফার হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেসব কোম্পানির বর্তমান মূল্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি, তাদের চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্ধারিত মূল্যে নামতে হবে, যাতে শিল্প খাত পর্যায়ক্রমে মানিয়ে নিতে পারে।

অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরে থাকা ১ হাজারের বেশি ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদকরা মূল্য প্রস্তাব করবে। যদি কোনো ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে ১৫ শতাংশের একটি দামের সীমার মধ্যে আসতে হবে। আর উৎপাদক সাতটির কম হলে, দেশের ভেতরের দাম ও বিদেশি বাজারের দাম (পিপিপি সমন্বয় করে) তুলনা করে যেটি কম, সেটির ভিত্তিতে মূল্য অনুমোদন দেওয়া হবে।

নতুন ওষুধ, প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং বায়োলজিক্যাল ওষুধের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি ও আলাদা ফর্মুলা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত বিকাশমান বায়োলজিক্যাল ওষুধ খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।

সায়েদুর রহমান জানান, শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে জারি করা হবে। ভবিষ্যতে ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নজরদারির জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বাধীন ‘ন্যাশনাল ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আপাতত এই দায়িত্ব পালন করবে ড্রাগ প্রাইস ফিক্সেশন কমিটি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ মাসে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে উৎপাদক, বিপণনকারী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। সবার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

Side banner
Side banner
Link copied!