ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থাকা এবং কমিটি অনুমোদনের বিনিময়ে অর্থ দাবির অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের দিকে জুতা হাতে তেড়ে যান এক পদপ্রার্থী। এ ঘটনার একটি ভিডিও রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিন উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুব রহমানের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের কথা কাটাকাটি হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাজমুল করিম মাহাবুব রহমানকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহাবুব রহমান নিজের পা থেকে জুতা খুলে নাজমুল করিমের দিকে তেড়ে যান। উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ওই পদে মাহাবুব রহমানকে স্থলাভিষিক্ত করার সুপারিশ করেন। তবে দীর্ঘ এক বছর পার হলেও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম কমিটি অনুমোদন দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুব রহমান বলেন, “সভাপতি হিসেবে সুপারিশ পাওয়ার পরও আমার কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম কমিটি অনুমোদনের জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত এক বছর ধরে কমিটি আটকে রাখা হয়েছে।
“বিষয়টি নিয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। আজও কমিটির অনুমোদনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আমাকে ধাক্কা দিলে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে জুতা হাতে নিই” বলেন তিনি।
তবে ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিধি মোতাবেক কমিটি উপস্থাপন না করায় আমি কমিটি অনুমোদন দেয়নি। এরই জেরে আজ (সোমবার) আমাকে তারা সিএনজিতে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
নাজমুল করিম আরও বলেন, এ ঘটনায় মাহাবুব জড়িত এবং তার কাছে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা দাবি করা হয়নি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
গণযোগ/এম এইচ